একদিন তোমার নামটাও অতীত হয়ে যাবে। তোমার চেয়ারটা খালি পড়ে থাকবে। তোমার ফোনটাও আর বাজবে না।
আর মানুষ ফিসফিস করে বলবে, “লোকটাকে আমার মনে আছে।”
কিন্তু প্রশ্ন হলো –
”তারা তোমাকে কীভাবে মনে রাখবে?”
তারা কি তোমার দয়া আর ভালোবাসার কথা মনে রাখবে, নাকি তোমার রাগের কথা? তোমার উদারতার কথা, নাকি তোমার লোভের কথা?
তোমার সিজদার কথা, নাকি তোমার অজুহাতের কথা? তোমার ছড়িয়ে দেওয়া ভালোর কথা, নাকি রেখে যাওয়া কষ্টের কথা?
কারণ, তোমার দেহ মাটিতে মিশে যাওয়ার অনেক পরেও, তোমার কাজের ঢেউ থেকে যাবে।
তোমার দেওয়া একটা সুন্দর হাসি হয়তো কারো স্মৃতিতে আজীবন বেঁচে থাকবে। তোমার করা সামান্য দান হয়তো কোনো ক্ষুধার্তের পেট ভরাবে।
তোমার উৎসাহে শুরু করা কারো নামাজ হয়তো তাকে বহু বছর পরেও সঠিক পথ দেখাবে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তিনটি আমল ছাড়া: সাদকায়ে জারিয়া (চলমান দান), এমন জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, অথবা নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।” (মুসলিম, ১৬৩১)
মানুষ এগুলোই মনে রাখবে। তোমার কতজন ফলোয়ার ছিল, তোমার পদ কী ছিল, তুমি কী পোশাক পরতে—এসব কিছুই না।
শুধু সেই কাজগুলোই টিকে থাকবে, যা তোমার জীবনকেও ছাড়িয়ে যাবে।
তাই, বুঝে-শুনে জীবনটা কাটাও। এমন কথা বলো যা মানুষের মনে শান্তির প্রলেপ দেয়। এমন কাজ করো যার প্রতিদান তোমার জীবনকালের পরেও পাওয়া যায়।
তোমার স্মৃতিকে মানুষের জন্য রহমত বানিয়ে যাও, আফসোস নয়।
কারণ একদিন যখন মানুষ বলবে, “আমি তাকে চিনি,” তাদের সেই কথাই হয়তো আল্লাহর দরবারে তোমার সাক্ষী হবে।


